আগামী ছয় মাসের মধ্যে ‘বিনিময়’ ও ‘লজিস্টিক ট্র্যাকিং’ চালু করবে আইসিটি বিভাগ : পলক
ই-কমার্স প্লাটফর্মকে একটি শক্তিশালী ও বিশ্বাসযোগ্য ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে চারটি প্লাটফর্ম তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো সরকার। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এরইমধ্যে ইউনিক বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন (ইউবিআইডি) নম্বর, কেন্দ্রীয় অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য সিসিএমএস প্রস্তুত করে ফেলেছে আইসিটি বিভাগের এটুআই। রবিবার এই প্লাটফর্ম দুটি’র সফট লঞ্চ সম্পন্ন করেছে বাণিজ্যমন্ত্রণালয়।
তবে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে ইন্টার অপারেবল ট্রানজেকশন প্লাটফর্ম ‘বিনিময়’। এটি চালু করতে আরো ছয় মাস সময় প্রয়োজন। এছাড়াও ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের লজিস্টিক ট্র্যাকিং প্লাটফর্মটি’র কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় বাণিমন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে এই প্লাটফর্মটিও একইসময়ের মধ্যে শেষ করবে এটুআই।
বাণিমন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে এমন তথ্যই জানিয়েছেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
তিনি বলেন, “ডিজিটাল কমার্স উদ্যোক্তাদের যারা অ্যাপস, ফেসবুক কিংবা ওয়েবসাইট খুলে ব্যবসায় করছেন তাদের নিবন্ধনের জন্য ইউনিক বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন (ইউবিআইডি) অ্যাপ্লিকেশনটি তৈরি করা হয়েছে। এখান থেকে সহজেই তারা তাদের ব্যবসায় নিবন্ধন করতে পারবেন। তাদের শ্রম ও সততা যেন বিফলে না যায় সেজন্য একটি কেন্দ্রীয় অভিযোগ নিষ্পত্তির প্লাটফর্মও আমরা তৈরি করেছি। আশা করছি আগামী ছয় মাসের মধ্যে ‘বিনিময়’এবং ডিজিটাল লজিস্টিক সেবাও চালু করতে পারবো।”
একইসঙ্গে প্লাটফর্মগুলো চালু করতে না পারার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজে আমাদের ইন্টার অপারেবল ডিজিটাল প্লাটফর্মের নাম দিয়েছেন‘বিনিময়’। মাননীয় অ্যাডভাইজার জয় ভাইয়ের সুপরামর্শে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতা নিয়ে এটা আমরা তৈরি করছি। এরই মধ্যে এর ডেমোনেস্ট্রেশন হয়েছে। কিন্তু ডিজিটাল হাটের অভিজ্ঞতা থেকে এর ব্যপকতা অনুযায়ী এই প্লাটফর্মের সিকিউরিটি, প্রোটেকশন এবং অ্যাকাউন্টিবিলিটি সবগুলো বিষয় ঠিক করতে আমরা আরো সময় নিচ্ছি। তাড়াহুড়া করে এতো বড় একটা সেনসেটিভ ও ক্রিটিক্যাল প্লাটফর্ম উদ্বোধন না করে ছয় মাসের মধ্যে আমরা ওপেনিং করবো। সেকেন্ড হচ্ছে পোস্ট ডিভিশনের ডিজির কাছ থেকে লজিস্টিক ট্র্যাকিং এর অগ্রগতি পাইনি। বণিজ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই সিদ্ধান্ত দিয়েছেন এখানে যে টাকা, টেকনলোজি লাগবে এটা আমাদের আইসিটি ডিভিশন তৈরি করে ফেলবে। এটার জন্য আমরা আরো ছয় মাস সময় নিচ্ছি। ”
পলক আরো বলেন, “এই ডিজিটাল সল্যুশনগুলো দেয়ার মধ্য দিয়ে আমরা খুব অল্প সময়ের মধ্যে খুব দ্রুত বিকাশমান ই-কমার্স সিস্টেমকে একটা গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে নিয়ে আসতে পারবো। ট্রাস্টের যে ঘটতি হয়েছিলো তা ফিরিয়ে এনে ডিজিটাল কমার্সের আল্টিমেট গোল পূরণ করতে পারবো”।
অনুষ্ঠানে ইউবিআইডি অ্যাপটির উদ্বোধন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। এসময় প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ব্যবসায় ডিজিটাল রূপান্তরে এই প্রক্রিয়াটি বিদ্যমান সঙ্কট কাটাতে সময়োপযোগী পদক্ষেপ বলে মত দেন।
বাণিজ্যমন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব তপন কান্তি ঘোষের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ডব্লিউআইটির মহাপরিচালক এইচএম শফিকুজ্জামান।
এছাড়াও অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান মাসুদ বিশ্বাস, এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, ই–কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইক্যাব) সভাপতি শমী কায়সার, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াহেদ তমাল, পুলিশের সিআইড ‘র এডিশনাল আইজি ব্যারিস্টার মাহবুবুবর রহমান এটুআই নীতি উপদেষ্টা আনীর চৌধুরী, এসবি, ডিজিটাল সিকিউরিটি এজেন্সি, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, ডাক অধিদপ্তরসহ মোট ১৬টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।